আমি মেয়েটার অদ্ভুত ধরনের কথা শুনে অবাক হলাম। পাগল টাগল নয়তো? না,এত রুপবতী একটা মেয়ে পাগল হতে যাবে কেন। নিশ্চয়ই মেয়েটির দেখার ভুল। আমার চেহারার সাথে তার বাবুল নামের লোকটার চেহারার মিল আছে হয়তো। তাই ভুল করে আমাকেই বাবুল ভাবছে। মানুষের চেহারার সাথে চেহারার মিল থাকতেই পারে।
আমি বিনীত স্বরে বললাম,“সরি,আমি বাবুল নই। আমার নাম বুলবুল।”
মেয়েটি আমার কথা শুনে ফিক করে হেসে দিল। সে হাসতে হাসতে বলল,“বাবুল আর বুলবুল একই কথা।”
“আপনাকে তো ঠিক চিনতে পারলাম না?”
“আহ্ তুমি আমাকে আপনি করে বলছো কেন? আমাকে চিনতে পারছো না? আমি তোমার ঝুমুর।
আমি বিষ্মিত হয়ে বললাম, ঝুমুর!
মেয়েটি আমার চেয়েও বিষ্মিত হয়ে বলল,“হ্যাঁ,আমাকে এত তাড়াতাড়ি ভুলে গেলে! অবশ্য আমিও জানতাম তুমি আমাকে ভুলে যাবে।”
আমি মেয়েটাকে ভালো করে দেখলাম। আগে কখনো এর সাথে কোথাও দেখা হয়েছে বলে মনে পড়ছে না।
“কি হলো, কি ভাবছো?”
“না, কিছু না। আসলে আপনাকে আমি ঠিক চিনতে পারছি না।”
“আবারও আপনি! দুষ্টুমি করছো তাই না বাবুল?”
“আপনি ভুল করছেন। আমি বললাম তো আমি আপনার বাবুল নই। আমার নাম বুলবুল।”
“আরে আমি জানি তো তোমার নাম বুলবুল। কিন্তু আমার এই নামে তোমাকে ডাকতে ভালো লাগে না। তাই বাবুল বলে ডাকি। সবাই তোমাকে যে নামে ডাকে আমি সেই নামে ডাকব কেন? সবার কাছে তুমি বুলবুল আমার কাছে বাবুল। হি হি হি।”
“আচ্ছা, আপনি যাবেন কোথায়?”
“কোথায় যাব মানে! বোকার মতো প্রশ্ন করছো কেন। নিজেকে খুব চালাক ভাবো কিন্তু তুমি আসলে আাস্ত একটা গাধা। শোন, আমি বাসা থেকে আবার পালিয়েছি। আর কখনো বাসায় ফিরে যাবো না।”
“বাসা থেকে আবার পালিয়েছেন মানে! এর আগেও কি একবার পালিয়েছিলেন?”
“হ্যাঁ, তুমি মনে হয় কিছু জানো না। ঢং!”
আমি মেয়েটার এই অদ্ভুত ধরনের কথা শুনে কিছুটা বিব্রতবোধ করলাম। মেয়েটি উৎসাহী গলায় বলল,“এই বাবুল, এই বাসাটা কি তোমাদের?”
মেয়েটির সাথে আমার আর কথা বলতে ইচ্ছা করছে না। আমি চুপ করে রইলাম।
“আহ্ বল না, এটা কি তোমাদের বাসা?”
“জি।”
আমি গেটের ভেতরে ঢুকলাম। মেয়েটিকেও দেখলাম আমার পেছন পেছন ঢুকছে। এই মুহূর্তে বড় ধরনের একটা ঝামেলায় পড়ে যাচ্ছি বলে মনে হচ্ছে। মুহূর্তে আমার মনে হল এই মেয়েটা রাস্তার খারাপ মেয়ে নয়তো? আমার এক দূর সম্পর্কের খালাতো ভাই রশীদ হলে সহজেই বুঝতে পারতো। তার অনেক খারাপ মেয়েদের সাথে সম্পর্ক আছে। রশীদ ভাই একদিন বললেন,“জানিস বুলবুল, মেয়ে মানুষ আমার খুব পছন্দের। এখনকার আইন খুব কড়া। আইন আগের মত থাকলে আমি প্রতিদিন একটা করে বিয়ে করতাম। এখনতো ঘরে বউ রেখে দ্বিতীয় বিয়ে করলে কমপক্ষে পাঁচ বছরের জেল হয়ে যাচ্ছে। স্বামী জেলে গেলে স্ত্রী হাফ ছেড়ে বাঁচে। নতুন করে আবার অন্য স্বামী খুঁজে নেয়।”







Reviews
There are no reviews yet.